মোস্তাফিজুর রহমান টিপু, লক্ষ্মীপুর:
অভায়াশ্রম মৌসুমে কার্ডধারী জেলেরা চাল পাচ্ছেনা। ব্যবসায়ী-রিকশাচালক, প্রবাসীদের নাম জেলে তালিকায় অন্তর্ভূক্ত রয়েছে। কিন্তু প্রকৃত জেলেদের নাম এ বছর হালনাগাত নিবন্ধন তালিকায় না থাকায় এবার সরকারি খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নদীতে মাছ শিকার ছাড়া যাদের বাঁচার কোনো উপায় নেই, সে সব প্রকৃত জেলেরাই সরকারি তালিকায় নিবন্ধিত হতে পারেননি। নিবন্ধন না থাকায় তারা কোনো খাদ্য সহায়তাও পান না।
চাল না পাওয়া জেলেরা হলেন, ইসমাইল, আবুল কালাম, সোহেল, স্বপন, খোরশেদ আকম, মুরাদ হোসেন, নরুল ইসলাম, মো: স্বপন, জাহাঙ্গীর আলম, মো: জামাল হোসেন, মো: ইব্রাহীম, তাজুল ইসলাম, আবুল প্রধান, আবুল বারেক, আক্তার, মিনার মিয়া, বিলকিছ বেগম প্রমূখ। তারা সকলেই চররমনী মেহন ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
এ দিকে চাল না পাওয়া কয়েকজন জেলে অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শাহজাহান মেম্বার কার্ডধারী জেলেদের থেকে টাকা নিচ্ছে তারাই চাল পাচ্ছে। তবে ৪নং ওয়ার্ড জেলেদের চাল বিতরণের দিন চালের জন্য অপেক্ষামান দুই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা শতাধিক কার্ডধারী জেলে জানান, তারা জেলেকার্ডে খাদ্য সহায়তা পাওয়ার জন্য শাহজাহান মেম্বারকে কোন টাকা দেয়নি এবং তিনি কখনও টাকা দাবী করেনি।
ইউপি সদস্য মো: শাহজাহান জানান, জেলেদের কাছ থেকে তিনি কখনও টাকা নেয়নি, এটি মিথ্যা অভিযোগ।
জেলে তালিকায় নাম নিবন্ধন ও তালিকা হালনাগাত করা মৎস্য বিভাগের কাজ। সরকারের কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে যাচাই-বাচাই করে জেলেদের মাঝে চাল বিতরণ করে। এখানে ইউপি সদস্যের কোন কাজ নেই।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন জানান, যেসব জেলেরা সরকারি তালিকায় নিবন্ধিত হতে পারেননি কিংবা হালনাগাত তালিকায় তাদের নাম নেই, খোঁজ খবর নিয়ে যাচাই-বাচাই করে তারা প্রকৃত জেলে হলে, তাদের নাম তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হবে।
প্রসঙ্গত, ইলিশের অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষিত লক্ষ্মীপুরের রামগতির আলেকজান্ডার থেকে রায়পুরের ১১ কিলোমিটার; চাঁদপুরের ষাটনল পর্যন্ত একশ কিলোমিটার এলাকা এবং রামগতির চর আলেকজান্ডার পর্যন্ত ৩০টি মাছ ঘাট নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে। এসব এলাকার আশপাশের বরফকলগুলো নিষেধাজ্ঞা চলাকালে বন্ধ থাকবে। এ সময় জেলেদের জন্য খাদ্য সহায়তা হিসেবে দুই কিস্তিতে প্রতি নিবন্ধিত জেলেকে ৪০ কেজি করে চাল দিচ্ছে সরকার।