নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
লক্ষ্মীপুরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রায় ৪ একর জমি ভূমিগ্রাসী চক্র দখল করে ঘর নির্মাণ করে বসবাস করেছে।
জেলার রামগতি উপজেলার চরলক্ষী মৌজার আর. এস ৫নং খতিয়ানের ১০১৪৪ ও ১০১৪৫ দাগে রামগতি মাছ ঘাট সংলগ্ন পাউবো’র “ওয়াপদা কলোনী” নামে পরিচিতি বেদখল হয়ে যাওয়া এ সম্পত্তি। ২৮ টি পরিবার আলাদা ভাবে এ জমিতে টিনসেড ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছে।
সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, পাউবো’র বেদখল হওয়া ৪ একর জমির তিন পাশে রয়েছে বাউন্ডারী ওয়াল, পুরানো ৭টি পাকা দালান এর মধ্যে দু’টি দুইতলা বাকীগুলো একতলা ভবন। একটি বৃহৎ পুকুর ও বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ-বনজ গাছ।
জেলা পানি উন্নায়ন বোর্ড সূত্রে জানাগেছে, ১৯৬২ সালে লক্ষ্মীপুর নোয়াখালী জেলার অধীন থাকাকালে বেদখল হওয়া এ “ওয়াপদা কলোনী” লক্ষ্মীপুরের সাব ডিভিশন অফিস ছিল। বর্তমানে পরিত্যক্ত ওই ৭টি ভবনে কর্মকতাদের অফিস কার্যালয় ছিল। পরে ১৯৮৪ সালে লক্ষ্মীপুরকে আলাদা জেলায় উন্নীত করার পর সাব ডিভিশন এ অফিস পানি উন্নয়ন বোর্ডের কলোনী হিসেবে ব্যবহার করত। এখানে কর্মকতাসহ অফিস সহায়করা বসবাস করেছিল। রামগতি ও কমলনগর উপজেলা এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় মেঘনা নদীর অব্যাহত ভাঙ্গন হতে রক্ষাকল্পে ২০১৪ সাল থেকে নদীর তীর সংরক্ষণ কাজ অব্যাহত আছে। বেড়ী বাঁধসহ এসব কাজ পাহারা দিতে অফিস সহায়করা এখানে থাকতে হয়। কিন্তু পাউবো’র “ওয়াপদা কলোনী” ভূমিগ্রাসী চক্র দখলে থাকায় অফিস সহায়করা এ কলোনীতে থাকা এখন নিরাপদ মনে করছেনা। তবে দখলদারদের সরে যেতে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে এ পর্যন্ত একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হলেও তারা সরছেনা। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য সেপ্টেম্বর-২০২৪ সালে লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন অফিস থেকে জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদন জমা দেওয়া হলেও এখনো দৃশ্যমান কোন কার্যক্রম চোখে পড়েনি।
“ওয়াপদা কলোনী” দখলদাররা হলেন, ‘মো: আমির, রাশেদা বেগম, আলাউদ্দিন, সুলতানা বেগম, ছায়েরা বেগম, নাজমা বেগম, মো: নূর উদ্দীন, মো: ছালেহ উদ্দীন, মনোয়ারা বেগম, মুর্শিদা বেগম, লিটন, মিলন, আশরাফ, বেচুমিয়া, ইউসুফ, কবির হোসেন, জামাল, আলাউদ্দিন, হাসিম, কবির মাঝি ও মুর্শিদা বেগমসহ ২৮ জন।’
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ-উজ-জামান খান বলেন, ‘জেলা প্রশাসকের কাছে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের জন্য তালিকা দেওয়া হয়েছে।