1. banglarprobhat@www.dailybanglarprobhat.online : দৈনিক বাংলার প্রভাত : দৈনিক বাংলার প্রভাত
  2. info@www.dailybanglarprobhat.online : দৈনিক বাংলার প্রভাত :
বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৮:৫৬ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে : বিএনপি নেতা এ্যানী ফ্যাসিস্ট সরকার ১৬ বছর ঈদ উদযাপন করতে দেয়নি : লক্ষ্মীপুরে এ্যানি গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সুষ্ঠু নির্বাচন প্রয়োজন : আবুল খায়ের ভূঁইয়া তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজের বাবার ওপর হামলা ঈদ-উল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, “বিনোদন পত্রিকার সম্পাদক ও ঢাকাস্থ জার্নালিষ্ট সেন্টারের সেক্রেটারী আজমল হোসেন হেলাল” ঈদ-উল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিশিষ্ট সমাজসেবক “ফিরোজ আলম সবুজ” ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ব্যবসায়ী “রেসু মৃদ্দ্যা” হাসিনার বিচার না হলে সে আবার সুযোগ গ্রহণ করবে : শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি হাসিনার বিচার না হলে সে আবার সুযোগ গ্রহণ করবে : শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতা লোকমান হোসেনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে শহরে বিক্ষোভ

রামগতি-কমলনগরে ৫৮ টি অবৈধ ইটভাটায় কাঠের কালো ধোঁয়ায় পরিবেশ দূষন

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২৫
  • ১৩৮ বার পড়া হয়েছে

লক্ষ্মীপুরঃ লক্ষ্মীপুরের কমলনগর-রামগতি উপজেলায় ৬৬ টি ইটভাটা রয়েছে। ৮ টির আছে বৈধ কাগজপত্র। বাকি ৫৮ টি ইটভাটা সম্পূর্ণ অবৈধ। এর মধ্যে রামগতিতে ৪৬টি বাটার মধ্যে চর আফজল নামে একটি গ্রামে আছে ২৩ টি অবৈধ ইটবাটা। কৃষি জমি নষ্ট করে এসব ইটভাটা তৈরি করা হয়েছে। ফসলী জমির টপসয়েল কেটে ইট তৈরী হচ্ছে। প্রতিটি বাটায় আছে নিজস্ব করাত কল। অধিকাংশ ইটবাটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সড়ক, বসতবাড়ী ও ফসলী জমির পাশে। ইটভাটায় পোড়ানো কাঠের কালো ধোঁয়ায় পরিবেশ দূষিত হওয়ার পাশাপাশি ধ্বংস হচ্ছে জীববৈচিত্র্য। সাম্প্রতিক পরিবেশ উপদেষ্টা এসব অবৈধ ইট ভাটা বন্ধের নির্দেশ দিলেও ৫৮ মধ্যে ৬টিতে জরিমানা করেছে স্থানীয় প্রশাসন। বাকী ভাটাগুলো কার্যক্রম চলছে।

অনুমোদনহীন এসব ভাটা বন্ধে স্থানীয়রা বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন সহ নানা কর্মসূচি পালন করে আসলেও জেলা-উপজেলা প্রশাসন কোন উদ্যোগ নেয়নি। বরং জানতে চাইলে ইটভাটার কয়েকজন মালিক ক্ষোভ করে জানালেন, তারা প্রশাসনকে টাকা দিয়েই এসব অবৈধ ইটভাটা পরিচালনা করছেন।

সরকারের পক্ষ থেকে অবৈধ ইটভাটা বন্ধের নির্দেশ দিলে এ অঞ্চলের ভাটার মালিকরা স্থানীয় প্রশাসনের পরামর্শ নিয়ে আদালতে রিট করে। ভাটার মালিকরা হাইকোর্টে রিট আবেদন করলেও আদালত এখন পর্যন্ত ইটভাটার পক্ষে কোন রায় দেয়নি। তবুও আদালতের দোহাই দিয়ে ভাটার মালিকরা হাইকোটের রায় আছে বলে, অবৈধ ইটভাটা চালিয়ে যাচ্ছে। আর স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করছেন। প্রত্যেক ইটভাটা থেকে মোটা অংকের টাকা স্থানীয় প্রশাসনের দপ্তরে যায়। সেজন্য অবৈধ ইট বাটা বন্ধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারী নেই।

ইটপোড়ানো নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৯ থেকে জানা গেছে, একটি ইটভাটা স্থাপনের আগে সরকারের ১০টি দপ্তর থেকে ছাড়পত্র নিতে হয়। এ আইন তয়াক্কা করছেনা ভাটার মালিকেরা। এ অঞ্চলে প্রতিবছর বাটার সংখ্যা বাড়ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বন ও পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগরে এতোগুলা ইটভাটা কি ভাবে হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দ্রুত এসব অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেন। কিন্তু পরিবেশ উপদেষ্টার এই নির্দেশকে আমলে নেয়নি স্থানীয় প্রশাসন।

তথ্যসূত্রে জানাগেছে, রামগতিতে মোট ইটভাটা রয়েছে ৪৬ টি। এর মধ্যে মাত্র ২ টি ভাটার কাগজপত্র থাকলেও বাকি ৪৪ টি অবৈধ। উপজেলার চররমিজ ইউনিয়নের চরআফজল গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদের ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডজুড়ে ইটভাটার ছড়াছড়ি। এ গ্রামে গড়ে উঠা ভাটাগুলো হলো–এডব্লিউবি, এসবিএম, এফএবি, এডব্লিউবিটু, টিবিএল, এসিবি, আরবিএম, এবিএম, বিবিএম, এএমআরই, এসএসবি, এআরবি, এফএমবি, পিবিএম, এসএবি, এমএসবি, এএমএ, বিবিএল, এমবিএল, জেএসবি, এমপিবি, ফাইভস্টার ও ফোরস্টার।

কমলনগর উপজেলায় মোট ইটভাটা ২০ টি। বৈধ ৬ টি আর অবৈধ ১৪ টি রয়েছে। অবৈধ ইটভাটাগুলো- তোরাবগন্জ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চরপাগলা গ্রামে মদিনা ব্রিকস, ৪ নম্বর ওয়ার্ডে হাসিনা ব্রিকস, ৮ নম্বর ওয়ার্ডে এলএমবি ব্রিকস, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রহিমগঞ্জে তাহেরা ব্রিকস, ৭ নম্বর ওয়ার্ডে এমআরবি রহিমা ব্রিকস, ৭ নম্বর ওয়ার্ড মদিনা ব্রিকস, ৮ নম্বর ওয়ার্ড নবাব ব্রিকস ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডে গুলশান ব্রিকস ও চরকাদিরা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে সুমাইয়া ব্রিকস, আল্লারদান,৫ নম্বর ওয়ার্ডে রহিমা ব্রিকস, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চরবসু এলাকায় আকাশ ব্রিকস, ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ভাই ভাই ব্রিকস, হাজিরহাট ইউনিয়নের মিয়াপাড়া মা ফাতেমা ব্রিকস ও চরকালকিনি ১ নম্বর ওয়ার্ডে শামিম ব্রিকস সহ মোট ১৪ টি অবৈধ ইটভাটা চলছে।

দেরীতে হলেও জেলা ও উপজেলা প্রশাসন যৌথ উদ্যেগে অভিযান করে ৫ জানুয়ারী রামগতিতে ৩টি ইটবাটায় ৫ লক্ষ টাকা, ৬ জানুয়ারী কমলনগরে ৩টি ইট বাটায় ৬লক্ষ ৩০হাজার টাকা জরিমান করে এবং বাটাগুলো গুড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া স্থায়ী ভাবে এসব বাটার কার্যক্রম বন্ধ রাখার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অভিযানের বিষয় ভারটার মালিকেরা বলেন, প্রশাসন ভাটা ভাঙলে ৪ থেকে ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতি হবে। পুনরায় সংস্কার করে আবার বাটার কার্যক্রম চালিয়ে ক্ষতি ফুসানো যাবে। তারা বলেন, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে বাটা স্থাপন করা হয়েছে। সামান্য ক্ষতির কারণে বাটা বন্ধ থাকবেনা। তবে তারা কৌশল করে ভাটা অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন জমা দিয়ে আনুমোদন না পেয়েই ভাটার কার্যক্রম চালাচ্ছে।

স্থানীয় লোকজন বলছেন, ভাটার চারপাশে থাকা ফসলি জমিতে বেড়ে ওঠা ধান, সয়াবিন, বাদামগাছসহ বিভিন্ন রবিশস্য ঝুঁকিতে পড়েছে। ইট তৈরিতে ব্যবহৃত মাটির সবটাই যাচ্ছে ফসলি জমি থেকে। তাদের অভিযোগ, কৃষিজমি রক্ষায় কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ, নজরদারি নেই পরিবেশ অধিদপ্তরেরও।

তিশা ব্রিকসের (টিবিএল) মালিক ও ভাটা মালিক সমিতির সেক্রেটারী ছানা উল্যাহ বলেন, উপজেলায় অনেক অবৈধ ইটভাটা রয়েছে। আমরা অনেকে বৈধ কাগজপত্রের জন্য আবেদন করেছি। এখন আপাতত প্রশাসনকে ম্যানেজ করে চালাচ্ছি।

ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি হাজি খলিল বলেন, এ অঞ্চলের অধিকাংশ ইটভাটা অবৈধ। কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানের মালিক লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছেন। প্রশাসন অভিযান চালালে কী করবেন- এমন প্রশ্নে বলেন,চেয়ে চেয়ে দেখব। আর কী করব?। বিভিন্ন দিবস পালনের জন্য প্রশাসন ও পুলিশ আমাদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছে।

লক্ষ্মীপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হারুনুর রশিদ বলেন, রামগতি-কমলনগর উপজেলায় কৃষি জমি নষ্ট করে গড়ে উঠেছে প্রায় ৬০টির মত অবৈধ ইটভাটা। আমাদেরকে অবহিত না করে কি ভাবে তারা ইটভাটাগুলো স্থাপন করছেন এমন প্রশ্ন রাখেন তিনি। আমি ইউএনওদেরকে বার বার বলেছি অভিযান চালাতে। কিন্তু তারা ইটভাটায় অভিযান চালাতে অনিহা প্রকাশ করেন।

রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ আমজাদ হোসেন বলেন, হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী এ উপজেলায় ৪৬ টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে লাইসেন্স রয়েছে মাত্র দুটির। তবে কয়েকটির মালিকপক্ষ আবেদন করেছে।

কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুচিত্র রঞ্জন দাস বলেন, এ উপজেলায় ১৪ টি অবৈধ ইটভাটা রয়েছে। দেখি কি করা যায়।

লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) রাজিব কুমার সরকার বলেন, জেলার মিটিংগুলোতে ইউএনওদেরকে বলা হয়েছে অভিযান চালিয়ে এসব অবৈধ ইটভাটা ভেঙে দিতে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত