লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধিঃ
মুখের ভেতর কাপড় দিয়ে, মাথা ও সমস্থ মুখ কাপড়ে মুড়িয়ে রশি দ্বারা হাত-পা বাঁধা আহত অবস্থায় এক যুবকে উদ্ধার করল লক্ষ্মীপুর সদর থানার পুলিশ। একইদিনে দূর্বৃত্তরা যুবলীগ নেতা হারুন মোল্লার বসত ঘরে হামলা করার অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের প্রস্তুতি চলছে বলে ভূক্তভোগীরা জানান।
শনিবার (৮ জুন) সকালে পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানাগেছে, জুয়া খেলার স্থান বসা নিয়ে দুই খালাত ভাই মরু সর্দারের ছেলে ফরহাদ ও মফিজ সর্দারের ছেলে হারুন সর্দারের সাথে আধিপাত্য নিয়ে বাকবিতান্ড লেগে যায়। হাতাহাতির একপর্যায়ে একে অপরকে বেদম মারপিট করে। পরে হারুন সর্দার ফোন দিয়ে খবর দিলে তার আত্মীয়রা দল বেঁধে দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে এসে এলাকায় আতংক সৃষ্টি করে। এ সময় দূর্বৃত্তরা মরু সর্দারের ছেলে ফরহাদের দুই হাত পিছনে নিয়ে দুই পা হাতের সাথে বেঁধে মুখের ভেতরে কাপড় ডুকিয়ে মাথাসহ সমস্ত মুখ কাপড়ে প্যাঁছিয়ে নব্যার চরে নিয়ে খুঁটির সাথে বেঁধে রাখে। চারদিকে ফরহাদকে খোঁজ করে না পেয়ে থানায় পুলিশকে জানালে তাৎক্ষণিক লক্ষ্মীপুর সদর থানার পুলিশের এস আই মোবারক ও নূরুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে ফরহাদকে উদ্ধার করে এবং রক্তাক্ত অবস্থায় হারুন সর্দারকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে এনে ভর্তি করে।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে জেলা সদরের চররমনী মোহন ইউনিয়নের উত্তর চর রমনী গ্রামের ৩নং ওয়ার্ডের মরু সর্দারের বাড়ীর পাশে পুলের ঘোড়ায় জুয়া খেলার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত।
মরু সর্দারের ছেলে মো: রাসেল জানান, তাস খেলা নিয়ে আমার ভাই ফরহাদের সাথে হারুন সর্দারের কথা কাটাকাটির মধ্যে মারদরের ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে শরীফ সর্দার, মুফিজ সর্দার, হারিছ সর্দার, হারুন, সাইফুল, বারেক ও জুয়েল সহ বহু লোক অস্ত্র সস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে ফরহাদকে হাত-পা বেঁধে মূখের ভেতর ও মাথায় মুখমণ্ডলে কাপড় মোড়িয়ে নৌকা যোগে মেঘনার কুলে নব্যার চরে নিয়ে ফেলে দেয়। পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে। তিনি বলেন, পুলিশ না আসলে অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে জোয়ারের পানিতে ডুবে ফরহাদ মারা যেত।
ভিকটিম ফরহাদ জানান শরীফ, মফিজ, হারিছ ও সাইফুল সর্দার তাকে মারপিট করে ওই রাতে একটি নৌকায় তুলে তার হাত-পা রশি দিয়ে বেঁধে চরের দিকে নিয়ে যায়। সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলায় পরে কি হয়েছে তা আর বলতে পারেনি।
তরে হারিছ সর্দার তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন।
ওই ঘটনার পর রাত ১২টার দিকে একইস্থানে ঘটনাস্থলে পাশে মোল্লা বাড়ির হারুন মোল্লার ঘরে একদল দুষ্কৃতকারী হানা দেয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে। তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে প্রাণের ভয়ে ঘর থেকে পালান যুবলীগ নেতা হারুন মোল্লা।
ভুক্তভোগী হারুন মোল্লার স্ত্রী বলেন, গত কয়েক দিন ধরে তার স্বামী হারুন মোল্লা গ্রামের গরু-মহিষ চোর, ভূমিদস্যু, মাদক কারবারি ও জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলেছেন। এ জন্য অপরাধীদের বিশাল একটি দল গত রাতে আমার (স্বামী) হারুন মোল্লাকে টার্গেট করে ঘরে হানা দেয়। তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে হারুন মোল্লা ঘর থেকে কৌশলে বের হয়ে যান।
তারা আমার স্বামী হারুন মোল্লাকে না পেয়ে আমাদের বৌ-শ্বাশুড়িকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রাখে। ভাংচুর করে পুরো বসতঘর ও আসবাবপত্র। এছাড়া ঘরে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে।
রাতেই সদর মডেল থানার পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এস আই) মোবারক হোসেন ও নরুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুদ্দিন আনোয়ার বলেন, ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে জানানো হলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।