মোস্তাফিজুর রহমান টিপুঃ
লক্ষ্মীপুরে ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে লোকালয়ে জোয়ারের পানি ডুকে প্লাবিত হয়েছে কয়েকটি গ্রাম। লক্ষ্মীপুরের উপকূলীয় এলাকা সদরের চররমনী মোহন ইউপির মজুচৌধুরিহাট ও আংশিক এলাকা, কমলনগর, রামগতি ও রায়পুরের নিম্নাঞ্চলের বাড়িঘরে পানি ঢুকে ডুবে গেছে। স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে অন্তত ৬ থেকে ৭ ফুট পানি উঠেছে। পানিবন্ধী হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার বাসিন্দা।
রোববার দুপুরের পর থেকে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বৃষ্টির সাথে ঝড়ো হওয়ায় বইছে। এর সাথে মেঘনার অস্বাভাবিক জোয়ার বৃদ্ধি হচ্ছে। বিকেল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে লোকালয়ে পানি প্রবেশ শুরু হয়। পর্যাক্রমে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত সবকটি এলাকায় পানি ঢুকে ডুবে যায় বাড়িঘর, ফসলি জমি, পুকুর ও মাছের ঘের। এর মধ্যে রামগতির চরআবদুল্লাহ, বয়ারচর, তেলিরচর, চরগজারিয়া, বড়খেরী,কমলনগর উপজেলার লুধুয়া, মাতাব্বরহাট, নাছিরগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর সদরের চররমনী মোহন ইউনিয়নের মজুচৌধুরিহাট এলাকার বুড়িরঘাট সংলগ্ন বাঁধ ছুটে পানি প্রবেশ করায় ডুবে গেছে ফসলি জমি। চরমেঘায় কয়েটি বসতবাড়ী পানির নীছে। রায়পুর উপজেলার চরকাচিয়া ও চরখাসিয়া সহ প্রায় ২২টি এলাকা প্লাবিত। এসব স্থানের বিভিন্ন জায়গায় বাঁধ না থাকায় এমনটি হয়েছে বলে জানান স্থানয়ীরা।
এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। দুপুর থেকেই সিপিপি ও রেডক্রিসেন্টের কর্মীরা উপকূলের বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে মাইকিং করা হয়েছে। ১৮৯টি স্থায়ী ১০০টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ৬৪টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নগদ ১৯ লাখ ২০ হাজার টাকা ও ৪৫০ মেট্রিকটন চাল মজুদ রাখা হয়েছে। রামগতি ও কমলনগরের ইউএনওদের ৫০০ প্যাকেট শুকনা খাবার প্রস্তুত রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। রেডক্রিসেন্টের ৪৫০ জন ও সিপিপির ৩২৮০ জন স্বেচ্ছাসেবীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া রোভার স্কাউট এর ১০৩ ইউনিটে ৮২৪ জন এবং বিএনসিসির ১০ জন স্বেচ্ছাসেবীকে দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা তৈরি করে সহায়তা করা হবে বলে জানান।