মোস্তাফিজুর রহমান টিপু, লক্ষ্মীপুরঃ
লক্ষ্মীপুরে বাজারগুলোতে হু হু করে বাড়ছে ডিমের দাম। প্রতি ডজন ডিমের দাম ১৫০-১৬০ টাকায় উঠেছে। এ ছাড়া গ্রামেগঞ্জে ডিমের হালি বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকা দরে। দামবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষ ডিম কম কিনছে বলে জানিয়েছেন দোকানিরা। অস্বাভাবিক দামবৃদ্ধিতে নিত্যপণ্যটি কিনতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ মানুষ। দাম বৃদ্ধিতে থেমে নাই সবজিও। টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সবজি।
সরেজমিনে জেলা শহরের মাছ বাজার রোড ও গোডাউন রোডসহ বিভিন্ন ডিমের দোকান ঘুরে জানা যায়, দেশি হাঁসের ডিম বিক্রি হচ্ছে হালি প্রতি ৮০ টাকা, কক মুরগীর ডিম বিক্রি হচ্ছে ৭৫ টাকা হালি, লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হতো ৭০, ৬৫ ও ৪০ টাকায়, এমন চিত্র দেখা যায়।
সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, ডিম ও সবজি দাম সাধ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে। এখনই লাগাম টেনে না ধরলে এগুলো কেনা অসম্ভব হয়ে উঠবে।
বিক্রেতারা বলছেন, তীব্র গরমে মরে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে অনেকেই আগে ভাগে বিক্রি করে দিচ্ছেন মুরগি। এতে ডিম উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
লক্ষ্মীপুরের মান্দারী বাজার, ভবানীগঞ্জ, চৌরাস্তা, জকসিন, দালাল বাজার, টুমচর বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, বাজারে ডিমের সরবরাহ কম থাকার অজুহাতে বেড়েই চলেছে দাম। ১০ থেকে ১৫ দিন আগেও খুচরা বাজারে লাল ডিমের ডজন ১২০ টাকা ছিল। কয়েকদিনের ব্যবধানে এখন সেটি ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। আর প্রতি হালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা। আর সে হিসাবে প্রতি ডিমের দাম পড়ছে ১২ টাকা ৫০ পয়সা।
এদিকে, বাজারে প্রায় তিন-চার সপ্তাহ ধরে সবজির দাম চড়া। এক কেজি বেগুনের দাম এখন ৭০ থেকে ৮০ টাকা। পটল ৫০-৬০টাকা, তরী ৪০-৫০টাকা, কাকরোল ৯০টাকা, সছিন্দা ৭০টাকা, করলা ৭০টাকা, কাঁচা মরিচ ১৫০টাকা, বরবটি ৯০টাকা। এমনকি সস্তা দামে পরিচিত পেঁপের কেজিও এখন ৭০ টাকা। গাজরের কেজি ১০০ টাকা। ৪০ টাকার নিচে কোন সবজি পাওয়া যায়না। বাজারে পেঁয়াজের দাম নতুন করে বাড়তে দেখা গেছে।
জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকতা কুমদ রঞ্জন বলেন, জেলায় এ বছরে ডিম উৎপাদন লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারন করা ছিল সাড়ে ১৬ কোটি। উৎপাদন হয়েছে ১৫ কোটি ডিম। এছাড়া ডিমের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি হচ্ছে। এতে করে কিছুটা টান রয়েছে। তাই দামও কিছুটা বেড়েছে।