লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধিঃ শাহজাহান নামের এক যুবকের সাথে নারীকে আপত্তিকর অবস্থায় হাতেনাতে ধরে ফেলায় অপকর্মকে ধামাচাপা দিতে চার যুবককে মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ এক নারীর বিরুদ্ধে। তবে অপকর্মের ঘটনা অস্বীকার করছেন ওই নারী।
জানাগেছে, লক্ষ্মীপুর সদরের কুশাখালী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের মোল্লাপাড়ায় (১ লা মে) রাতে বাশরা বেগমের ও শাহজাহানের সাথে অপকর্মের ঘটনা ঘটে। আপত্তিকর অবস্থায় পার্শ্ববর্তী বাড়ীর সেলিম, মানিক, রানা ও বাবু হাতে নাতে তাদেরকে ধরে ফেলে। এ সময় বাশরা ও শাহজানের সাথে ওই চার যুবকের দস্তাদস্তি হয়। এতে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মারধর হয়। একপর্যায়ে শাহজাহান ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে এ ঘটনা জানাজানি হলে এলাকায় শালিশ বৈঠকের কথা ছিল। পরবর্তীতে শালিশ না হওয়াতে বাশরা বেগম বাদী হয়ে চার জনের বিরুদ্ধে লক্ষ্মীপুর আদালতে মামলা দায়ের করে।
আসামীরা হলেন, সেলিম, মানিক, রানা ও বাবু। তার কুশাখালী গ্রামে মেল্লাপাড়ায় আহসান উল্যার বাড়ীর বাসিন্দা।
মামলার এজাহার সুত্রে জানাগেছে, বাদী বাশরা বেগম সেলিমের সয়াবিন ক্ষেতে দৈনিক ৪’শ টাকা বেতনে কাজ করে তার কাছ থেকে ১২ হাজার টাকা পাওনা হয়। ঘটনার দিন টাকা পরিশোধের কথা থাকলেও দুই হাজার টাকা পরিশোধ করে বাকী টাকা না দেওয়ায় সেলিমের সাথে বাকবিতন্ডের এক পর্যায়ে সকল আসামীরা বাদীকে বেদম মারধর করে।
ভুক্তভোগী সেলিম জানায়, ঘটনার দিন রাতে আপত্তিকর অবস্থায় বাশরার বিছানা থেকে শাহজাহানকে ধরে ফেলায় বিষয়টি জানাজানি হলে ওই অপরাধের ধামাচাপা দিতে অন্যদিকে প্রভাবিত করতে সে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করছে। কাজের টাকা নিয়ে তার সাথে কোন দ্বন্ধ হয়নি। সে কাজ করছে টাকা নিতেছে। হিসাব নিকাষ করে বাকী টাকা নিয়ে যাবে। আমার জমিনে সে একা কাজ করেনা আরও অন্য নারী-পুরুষ শ্রমিক কাজ করছে সবাই যেভাবে টাকা নেয় সেও নিচ্ছে একই ভাবে।
মানিক জানান, ওইদিন সন্ধ্যা থেকে শাহজান নামের লোকটি ঘুরাফেরা করছে। তার বাড়ী এ এলাকায় নয়। আমরা চারজন তাকে পাহারা দিচ্ছি। একপর্যায়ে সে বাশরার ঘরে ঢুকে। কিছুক্ষন পরে আমরা তার ঘরের পাশে গিয়ে দেখি ঘরের মেঝোতে বিছানায় তাদের দুইজনকে একত্রে আপত্তিকর অবস্থায়। আমরা তাদেরকে হাতেনাতে ধরে ফেলি। তার মাকে সহ এলাকার লোকজনকে জানায়। এখন শুনি বাশরা আমাদের বিরুদ্ধে সাজানো মিথ্যা মামলা দিয়েছে। এলাকার স্বার্থে আমরা এ অপকর্মের বিচার চাই।
সেলিমের জমিতে কাজ করা কহিনুর নামের এক নারী জানান, শাহাজান বাশরার সাথে অবৈধ কাজ সেলিম সহ চার পাহারা দিয়ে ধরে ফেলে। দস্তাস্তি করে শাহজান এদেরকে কামড়-খামছি দিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় মামলা না করে টাকার পাওয়া মামলা করে বাশরা। তিনি বলেন, “আমরাতো কাজ করছি সেলিমতো ঠিকমত টাকা দিয়ে দেয়”।
কৃষক আবদুর রহিম জানান, অবৈধ কাজ ধরিয়ে দেওয়ায় সেলিম সহ চার জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা দিয়েছে বাশরা বেগম।
বাদী বাশরা বেগম জানান, শাহজান আমার খালাত ভাই। ১লা মে দুপুরে সে আমাদের বাড়ীতে আসে। আমার মায়ের নিকট পান ছেয়েছে দেখিছি এর পর তাকে দেখিনি। সেলিম, মানিক, মিন্টু, বাবুল এরা বলে আমি শাহজানের সাথে অপকর্ম করছি আমি বলি করিনাই এ নিয়ে তারা আমাকে বেদম মারধর করে। এছাড়া তিনি সেলিমের কাছে সয়াবিন ক্ষেতের টাকা পাওয়ার কথা জানান।