মোস্তাফিজুর রহমান টিপু, লক্ষ্মীপুরঃ
একসময়ের খরস্রোতা রহমতখালী খাল এখন দখলে-দূষণে বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে লক্ষ্মীপুরের ঐতিহ্যবাহী এ খালটি। বিগত কয়েক বছর থেকে স্থানীয় প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করে দখল করে নিয়েছে খালটির দুই পাশ। জেলা শহরের বাজার এলাকাসহ বিভিন্ন পয়েন্টে ময়লা-আবর্জনা ফেলায় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে খালের পানি। এতে বাড়ছে পানিবাহিত বিভিন্ন রোগবালাই, নষ্ট হচ্ছে জীববৈচিত্র্য, বিপন্ন হচ্ছে পরিবেশ। ঠিকমতো পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় অল্প বৃষ্টিতেই দেখা দেয় জলাবদ্ধতা। দখলদারদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে অচিরেই পুরো খাল দখল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা স্থানীয়দের।
জানাগেছে, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ, মান্দারি, জকসিন, মাদাম ও পৌর শহর সহ ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে ঐতিহ্যবাহী রহমতখালী খাল। এর মধ্যে সদর উপজেলার অংশে পড়েছে ১৮ কিলোমিটার। অবৈধ দখল ও দূষণের কবলে পড়ে পৌর শহর অংশে খালটির দৈর্ঘ্য এখন দাঁড়িয়েছে ৯ থেকে ১১ মিটারে।
একসময় ভোলা-বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বাণিজ্যিক পণ্যসামগ্রী নিয়ে স্টিমার ও নৌকায় আসা-যাওয়া করতেন ব্যবসায়ীরা। এ খালের পানি দিয়েই বিভিন্ন মৌসুমে ধান ও সবজির চাষ করতেন চাষিরা বর্তমানে রাজনৈতিক ও প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় অবৈধভাবে প্রতিনিয়ত গড়ে উঠছে কোনো না কোনো স্থাপনা বা বহুতল ভবন। ইট-বালি আর মাটি দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে খালের দু-পাশ। এতে দিন দিন খাল ছোট হয়ে যাচ্ছে। অপরদিকে, খালে ময়লা-আবর্জনার স্তূপের কারণে পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। ফলে অল্প বৃষ্টিতে পৌর এলাকায় সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। এতে নষ্ট হচ্ছে জীববৈচিত্র্য, বিপন্ন হচ্ছে পরিবেশ।
স্থানীয়রা জানান, একসময়ের ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু হলেও দীর্ঘদিন থেকে দখল হয়ে যাওয়ায় প্রবাহমান ঐতিহাসিক খালটি এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। কৃষিকাজেও চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের। দখলের পাশাপাশি পচা-ময়লা আবর্জনায় সবচেয়ে বেশি দূষিত হচ্ছে চন্দ্রগঞ্জ, মান্দারী, জকসিন ও লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের মাংস বাজার, মুরগি বাজার ও ধান বাজারসহ ব্রিজ এলাকা। বাজারের পচা-ময়লা আবর্জনা খালে ফেলায় পানি পচে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। এতে স্থানীয়দের মাঝে দেখা দিচ্ছে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ। খালের দু-পাড়ে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ দূষণ রোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
খাল দূষণের কথা স্বীকার করে লক্ষ্মীপুর পৌর মেয়র মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভূঁইয়া জানান, খালপাড়ের বাসিন্দাদের অসচেতনতায় খাল দূষণ হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসন উদ্যোগ নিলেই খালটি অবৈধ দখল থেকে মুক্ত করা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমান জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের চাহিদার ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) পদ্মাসন সিংহ বলছেন, রহমতখালী খালটিকে বাঁচাতে দখলদারদের তালিকা করে শিগগিরিই চালানো হবে উচ্ছেদ অভিযান।